জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেড়েছে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের প্রকোপ

ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৫ – জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া ও জলবাহিত রোগ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক আবহাওয়া ও তাপমাত্রার তারতম্য এডিস মশার বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানি মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সায়েম বলেন, “গ্রীষ্মকাল এখন দীর্ঘতর ও অনিয়মিত হয়েছে, যা মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে ডেঙ্গু মৌসুম সীমিত ছিল জুন থেকে সেপ্টেম্বর, এখন তা প্রায় সারা বছরই দেখা যায়।” এছাড়া, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলে বর্ষার শুরুতেই টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পানিবাহিত জীবাণু সহজেই খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কৃষিক্ষেত্রের সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। শহরের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে মশা নিধনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি মৌসুমভিত্তিক অভিযান না হয়ে স্থায়ী পরিকল্পনার অংশ হতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

আয়ান তাহরিম জুন ২৫, ২০২৫ 0
স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য
স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য: কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয়

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়—এটি বিনোদন, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি আত্মপ্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু যখন এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে আসক্তি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে।   📉 কীভাবে স্মার্টফোন আসক্তি ক্ষতি করছে কিশোরদের?   ১. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সময় হ্রাস করে এবং মানসিক অবসাদ তৈরি করে। ২. মনোযোগ কমে যাওয়া: পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ৩. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: ভার্চুয়াল জগতে ডুবে গিয়ে বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। 4. নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের 'পারফেক্ট' জীবন দেখে হীনমন্যতা জন্ম নেয়। ৫. উদ্বেগ ও অবসাদ: প্রতি মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা, প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে।   ✅ কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয়   ১. ডিজিটাল ডিটক্স পরিকল্পনা করুন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া বা হাঁটতে যাওয়া হতে পারে বিকল্প। ২. স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়। ৩. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা সব কিছু শেয়ার না করা, অনলাইন নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা, এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। ৪. শখ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিন ড্রইং, গান, লেখালেখি, খেলাধুলা বা কোনো নতুন দক্ষতা অর্জন স্মার্টফোনের বিকল্প হতে পারে। ৫. মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন অনুশীলন করুন মনের প্রশান্তি ও স্ট্রেস কমাতে ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ৬. অভিভাবকদের সহযোগিতা জরুরি অভিভাবকদের উচিত কিশোরদের ফোন ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা, কিন্তু নজরদারির চেয়ে বন্ধুর মতো আচরণ করা আরও কার্যকর।   🧠 মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ? কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে নাজুক থাকে। এই সময়টাই হলো আত্মপরিচয়ের গঠনকাল। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে, তৈরি করতে পারে বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহীনতা। তাই প্রযুক্তিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করলেও, সেটির দাস না হওয়াই শ্রেয়।   ✨ উপসংহার স্মার্টফোন আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, ভারসাম্য এবং বিকল্প অভ্যাস। কিশোরদের উচিত নিজেকে ভালোবাসা শেখা, বাস্তব জগতে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা, আর স্মার্টফোনকে যেন "সহায়ক", কিন্তু "শাসক" না বানানো।

রতন লাল জুন ২৫, ২০২৫ 0
নতুন কারিকুলাম: বাস্তবমুখী, না পরীক্ষামূলক?

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে নতুন জাতীয় কারিকুলামের মাধ্যমে। গত কয়েক দশক ধরে পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা, মুখস্থনির্ভরতা এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগহীন শিক্ষার অভিযোগ ছিল পুরনো। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রবর্তন করেছে নতুন পাঠ্যক্রম। লক্ষ্য—একটি সৃজনশীল, কার্যকর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—এই পরিবর্তনের পথে যেমন রয়েছে আশা, তেমনি রয়েছে দ্বিধা ও দুশ্চিন্তা।   কারিকুলামের নতুন দর্শন নতুন কারিকুলাম মূলত পরীক্ষার চাপে নয়, শেখার আনন্দে বিশ্বাস করে। এটি শিক্ষার্থীদের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মূল্যায়নের কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। বার্ষিক বা সেমিস্টারভিত্তিক বড় পরীক্ষা নয়, বরং ধারাবাহিক মূল্যায়ন, কার্যক্রমভিত্তিক কাজ, সহপাঠ কার্যক্রম ও সামাজিক দক্ষতা অর্জনের উপর ভিত্তি করে ফল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এনসিটিবি বলছে, নতুন কারিকুলামে ৬টি মূল লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে—নৈতিকতা, দেশপ্রেম, তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধ।   শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তবে শিক্ষকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, কারিকুলামের দর্শন যতই আধুনিক হোক না কেন, এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ছিল সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ-ভিত্তিক সহায়তা এবং নীতিগত স্পষ্টতা—যা অনেক জায়গায় অনুপস্থিত। রাজধানীর একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “এই কারিকুলাম বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষাদানের কথা বলে, কিন্তু আমাদের অনেক সহকর্মী এখনো জানেন না কীভাবে অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন করতে হবে, বা ক্লাসে গ্রুপ-ওয়ার্ক চালাতে হবে কোন পদ্ধতিতে।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ছিল সীমিত সময়ের, তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে। ক্লাসে বাস্তবে কীভাবে পরিবর্তন আনা যাবে—সে বিষয়ে তারা এখনও অনিশ্চিত।   শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা: আনন্দ না বিভ্রান্তি? নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জানায়, “আগে পরীক্ষা হলে বুঝতাম কোন বিষয় থেকে কতটা পড়তে হবে। এখন অ্যাসাইনমেন্ট আর প্রজেক্ট এমনভাবে আসে যে বুঝতে পারি না কোনটা গুরুত্বপূর্ণ, কোনটা নয়।” অন্যদিকে অনেক শিক্ষার্থী স্বীকার করেছে, এই পদ্ধতি নতুন হলেও আগ্রহ সৃষ্টি করছে। তারা বলছে, গ্রুপ-ওয়ার্ক ও উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করতে পারছে, যা আগে কখনো হয়নি। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বেশ বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ তাদের স্কুলে এখনও নেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, নেই প্রশিক্ষিত শিক্ষক বা পর্যাপ্ত বইপত্র।   অভিভাবকদের ভিন্নতর সংকট নতুন এই পদ্ধতির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরাও। আগে শিক্ষকেরা বা কোচিং সেন্টারগুলো সিলেবাসের একটা কাঠামো দিত, এখন তা অনুপস্থিত। সন্তান পড়াচ্ছেন এমন একজন অভিভাবক বলেন, “আমি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, কিন্তু মেয়ের বর্তমান পড়াশোনা পদ্ধতি বুঝতেই পারি না। না পারি সাহায্য করতে, না বুঝি সে ভালো করছে কিনা।” তাদের অভিযোগ, স্কুলের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না।   বিশ্লেষকদের মত: সংকট, কিন্তু সম্ভাবনাও শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন মনে করেন, “এটি একটি যুগোপযোগী কারিকুলাম—নিঃসন্দেহে। কিন্তু এটি ‘বটম-আপ’ পদ্ধতিতে তৈরি হয়নি। শিক্ষকদের ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই না করেই অনেকটা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কারিকুলাম বাস্তবমুখী হতে হলে মাঠ পর্যায়ে যথাযথ সমন্বয়, রিসোর্স এবং শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে মূল্যায়নের একটি নির্ভরযোগ্য কাঠামো থাকতে হবে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক) মিজানুর রহমান জানান, “আমরা বুঝি, নতুন যেকোনো পরিবর্তনে সময় লাগে। প্রথম বছরগুলোতে কিছু জটিলতা আসবে। তবে এটি পর্যায়ক্রমে পরিমার্জন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আরও উন্নত করা হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে, এবং আগামী বছরগুলিতে আরও সম্প্রসারিত হবে।”  

Shaeed জুন ২৫, ২০২৫ 0
iranqatar
ইরানের প্রেসিডেন্ট দুঃখ প্রকাশ করলেন কাতারের আমিরের কাছে, কেন?

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে ইরান ও কাতার দুই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। যদিও তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কাতারের আমিরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমন দুঃখ প্রকাশ সাধারণত কূটনৈতিক মহলে খুব সচরাচর দেখা যায় না। তাহলে কী হয়েছিল?   কী ঘটেছিল? ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইরানের একটি সামরিক ড্রোন ভুলবশত কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অনেক দেশের মতো কাতারের পক্ষেও উদ্বেগজনক ছিল। যদিও ড্রোনটি কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি এবং দ্রুত ইরানের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে, তবুও কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন একটি গুরুতর কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।   প্রেসিডেন্টের দুঃখ প্রকাশ ঘটনার পরদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট একটি ফোনালাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন: “ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে অনিচ্ছাকৃত ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে ঘটেছে। ইরান কাতারের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ শ্রদ্ধা জানায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”   কাতারের প্রতিক্রিয়া কাতার ইরানের দুঃখ প্রকাশ গ্রহণ করলেও তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়— “আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন একটি গুরুতর বিষয়। যদিও বিষয়টি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান হয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”   এর রাজনৈতিক তাৎপর্য   এই ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এর কূটনৈতিক প্রভাব গভীর। এর মাধ্যমে বোঝা যায়:   ইরান এখন কূটনৈতিকভাবে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে চাচ্ছে, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। কাতার তার আঞ্চলিক গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করেছে—একটি ছোট দেশ হয়েও তারা তাদের সার্বভৌমত্বে আপসহীন। এটি মধ্যপ্রাচ্যের বড় দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসকেও সামনে এনেছে, যেখানে যেকোনো ছোট ঘটনা বড় উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে।   উপসংহার   ইরানের প্রেসিডেন্টের কাতারের আমিরের কাছে দুঃখ প্রকাশ নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একদিকে যেমন ইরানের কূটনৈতিক পরিপক্বতার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণও তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এমন দায়িত্বশীল আচরণ আরও প্রয়োজন।

Kalam Khan জুন ২৫, ২০২৫ 0
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ কি সত্যিই শেষ—কে কী পেল?

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ও ইরানের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরে এ দুই দেশের মধ্যে চলা গোপন ও প্রকাশ্য উত্তেজনা ২০২৫ সালে এসে সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। ড্রোন হামলা, সাইবার আক্রমণ এবং সীমান্তে সরাসরি পাল্টা-প্রতিক্রিয়া পুরো অঞ্চলকে কাঁপিয়ে তোলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কি সত্যিই এই দীর্ঘ শত্রুতা শেষের ইঙ্গিত দিচ্ছে? আর এই দ্বন্দ্বে কে কী পেল? যুদ্ধের পটভূমি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ—দুইয়ের সংঘর্ষ থেকেই উত্তেজনার সূচনা। ইসরায়েলের দাবি ছিল, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করেছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ২০২৫ সালের শুরুতে সিরিয়ায় একটি ইরানি সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়। কয়েক সপ্তাহের এই সংঘাতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যস্থতায় অবশেষে দুই দেশ এক অঘোষিত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। একটি অস্থায়ী চুক্তির আওতায়— ইরান পরমাণু কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনবে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দেবে ইসরায়েল নতুন করে ইরানি স্থাপনায় আঘাত না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে কে কী পেল? ইরান যা পেল: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হতে পারে আঞ্চলিক মিত্রদের (যেমন: হিজবুল্লাহ, সিরিয়া) সমর্থন অব্যাহত রাখতে পারবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বিজয় দাবি করার সুযোগ ইসরায়েল যা পেল: ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে একটি সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কিছুটা স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক সমর্থন   তবে যুদ্ধ কি সত্যিই শেষ?   এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু দুই দেশের আস্থা একে অপরের প্রতি এখনও ভঙ্গুর। আঞ্চলিকভাবে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে পারে। পর্দার আড়ালে সংঘর্ষ, সাইবার হামলা ও গুপ্তচরবৃত্তি চলতেই থাকবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের এই পর্ব আপাতত শেষ হলেও প্রকৃত অর্থে শান্তি আসেনি। মধ্যপ্রাচ্য এখনও একটি বিস্ফোরক ভূখণ্ড, যেখানে যে কোনো সময় আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এই বিরতি শুধু "শ্বাস নেওয়ার" সময়, কিন্তু "সমাধান" নয়।

রতন লাল জুন ২৫, ২০২৫ 0
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে চরম ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৫ – জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দিন দিন বেড়ে চলেছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বিস্তার, অনিয়মিত বৃষ্টি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এক সমীক্ষায় জানিয়েছে, ২০২৪ সালে উপকূলীয় ১২টি জেলার মধ্যে অন্তত ৭টিতে ধানের উৎপাদন কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা ও খুলনার কিছু অঞ্চলে একাধিক মৌসুমে চাষ সম্ভব হচ্ছে না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফারজানা রহমান বলেন, “উপকূলীয় মাটিতে লবণাক্ততার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ গুণ বেড়ে গেছে। এতে ধান, পাট, সবজি এমনকি মাছের চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলস্বরূপ এলাকার মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে স্থানান্তর হচ্ছে।” স্থানীয় চাষিরা বলছেন, আগে যেখানে বছরে তিনবার ফসল হতো, এখন একবারও সঠিকভাবে ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না। অনেকেই জমি ফেলে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা উপকূলীয় মানুষের জীবনে নতুন করে আঘাত হানে। ২০২৫ সালের মে মাসেই ঘূর্ণিঝড় ‘নির্মল’-এর আঘাতে বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং মিষ্টি পানির পুকুরে লবণাক্ত পানি ঢুকে যায়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০২৫–৩০ সময়কালের জন্য একটি ‘জলবায়ু সহনশীল কৃষি কর্মপরিকল্পনা’ তৈরি করেছে, যার আওতায় উপকূলীয় কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ফসল চাষে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড উপকূলবর্তী এলাকায় নতুন করে বাঁধ নির্মাণ ও পুরাতন বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে, যাতে জোয়ারের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ না করতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজ উৎপাদন আরও ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের শঙ্কা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব ও প্রতিদিনকার চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

Kalam Khan জুন ২৫, ২০২৫ 0
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম

বাংলাদেশের অর্থনীতি চলতি (২০২৪–২৫) অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৩ শতাংশ হতে পারে, যা সরকার নির্ধারিত ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ, বিদেশি রিজার্ভ সংকট, এবং টাকার অবমূল্যায়ন এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের পেছনে বড় কারণ। মূল্যস্ফীতি ও আমদানি নির্ভরতা এপ্রিল মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.২ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ। খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল ও মুরগির মাংসে। বাজারে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। একজন ভ্যানচালক বলেন, “আগে ২০০ টাকায় একবেলার বাজার হতো, এখন ৫০০ টাকায়ও পেট ভরে না।” রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৩ সালের তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২১ সালে এটি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এর ফলে এলসি খোলা, আমদানি পণ্য ছাড়, এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধে চাপে পড়ছে সরকার ও বেসরকারি খাত। সরকার কী বলছে? অর্থমন্ত্রী কামাল সংসদে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ ও জলবায়ুজনিত সমস্যার কারণে আমাদের কিছুটা ধাক্কা খেতে হচ্ছে। তবে সরকার দক্ষভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।” সরকার এবার কৃষি, গার্মেন্টস, ও এসএমই খাতে বেশি বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন, “আমদানিতে জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদহার, এবং কর কাঠামোর অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে। সরকারের উচিত প্রণোদনা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।” বিশ্লেষকদের মত অর্থনীতিবিদ ড. সালেহীন মাহমুদ বলেন, “সরকার যদি অবকাঠামো উন্নয়ন ও মুদ্রানীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করে, তবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে—মূল্যস্ফীতির লাগাম না টানলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।” বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। যেখানে উন্নয়নের চিত্র আছে, সেখানেই আছে দুর্বল মুদ্রানীতি, রিজার্ভ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ। আগামী ছয় মাসে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোবে না কি আরও চাপে পড়বে।

রতন লাল জুন ২৫, ২০২৫ 0
নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

Montu Mian জুন ২৫, ২০২৫ 0
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Jamil Saxona জুন ২৫, ২০২৫ 0
১৫ আগস্ট পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

চলমান পাবলিক পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের সব কোচিং সেন্টার আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।   পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোচিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস, গাইড সরবরাহ ও পরীক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতি বছর পরীক্ষার সময় এসব সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, “আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং মানসম্মত পরীক্ষা। সেই লক্ষ্যে কোচিং সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা একটি পূর্বপ্রস্তুতির অংশ।” তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত তদারকিতে থাকবে এবং কেউ যদি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   কোচিং মালিকদের আপত্তি এদিকে সিদ্ধান্তের পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোচিং সেন্টার মালিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢাকার একটি বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে। অনেকেই একেবারে পরীক্ষার আগে রিভিশনের জন্য আসে। হুট করে বন্ধ করে দিলে তারা বিপাকে পড়বে।” তবে সরকার বলছে, পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সময়সূচি আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে।   প্রকাশ্যে-গোপনে চালু রাখার প্রবণতা ঠেকাতে নজরদারি আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, কোচিং সেন্টার বন্ধের সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান গোপনে চালু ছিল। এবারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সরকার অতিরিক্ত নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সাদা পোশাকে টহল এবং হটলাইন নম্বর চালু রাখছি। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Kalam Khan জুন ২৪, ২০২৫ 0
করোনা পরবর্তী জটিলতায় বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা

করোনা মহামারির পর থেকে দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মহামারির সময়কার বিচ্ছিন্নতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জন হারানোর মতো মানসিক ধাক্কা এখনো অনেক মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, মহামারি-পরবর্তী সময়ে অন্তত ৪২ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক চাপে ভুগছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত উদ্বেগ, বিষণ্নতা, নিদ্রাহীনতা এবং আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞ মতামত: মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিনা সুলতানা বলেন, "করোনা শুধু শারীরিক রোগ নয়, এটা মানুষের মানসিক ভারসাম্যও ভেঙে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকা, চাকরি হারানো, আত্মীয়স্বজনের মৃত্যু—এসব ঘটনার প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রোগী আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ও মাদকাসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।   স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা: সরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ না থাকায় রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।   প্রতিরোধ ও করণীয়: বিশেষজ্ঞরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পারিবারিক সহানুভূতি, সামাজিক যোগাযোগ, নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রাত্যহিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সম্প্রসারণ ও হেল্পলাইন চালুর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

জানিফ হাসান জুন ১৭, ২০২৫ 0
চীনের সঙ্গে উত্তেজনা: দক্ষিণ চীন সাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের নৌমহড়া

দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও শক্তি প্রদর্শন করল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার USS Theodore Roosevelt এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ সম্প্রতি বিতর্কিত এই অঞ্চলে প্রবেশ করে টহল মিশনে অংশ নেয়। পেন্টাগনের দাবি, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত কার্যক্রম, যার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌপরিবহন স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে চীন এই পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে এবং তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে তারা ‘প্রত্যুত্তর’ দিতে প্রস্তুত। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও ২০১৬ সালের হেগ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এই দাবি খারিজ হয়েছে।   আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা শুধু চীনের জন্য নয়, বরং সমগ্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু নিজেরাই নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি ফিলিপাইনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল আকারের যৌথ সামরিক মহড়া, যেখানে উভয় দেশের নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড অংশগ্রহণ করে। এতে অংশ নেয় ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ড্রোন। এই মহড়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত স্কারবোরো শোল এলাকার কাছাকাছিও কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যেটি চীন এবং ফিলিপাইন উভয় দেশের দাবির কেন্দ্রবিন্দু। এই যৌথ মহড়া চীনকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে এককভাবে নয় বরং মিত্রদের নিয়ে সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে। ফিলিপাইন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া—এই চার দেশকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীন এই মহড়াকে ‘সীমান্ত লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিজের ভূখণ্ড ও জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো প্রকার বাহ্যিক চাপ আমাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে না।”   বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর বর্তমানে একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ ইস্যু হিসেবে দেখলেও চীন বিষয়টিকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের অবমাননা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. লি ঝাও বলেন, “দুই পক্ষের সেনাবাহিনী যখন এত ঘন ঘন এবং এত কাছাকাছি এলাকায় কার্যক্রম চালায়, তখন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কোন পক্ষ ভুলক্রমেও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলটাই অস্থির হয়ে উঠতে পারে।” বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই উত্তেজনা শুধুই সামরিক নয়, বরং বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে। দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য হয়, ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জানিফ হাসান জুন ১২, ২০২৫ 0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিপদের আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। তবে এর বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং নীতিমালার আওতায় আনতে বিশেষজ্ঞরা এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত "এআই অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট" শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি।   ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), অটোমেটেড ভুয়া সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক বলেন, "অনেকেই এখন বিশ্বাস করছে না কোন ছবি বা ভিডিও আসল। এর ফলে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে যাচ্ছে। রাজনীতি, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।"   চাকরির বাজারে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অনেক শ্রমনির্ভর ও মধ্যম স্তরের পেশা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে কল সেন্টার, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং হিসাবরক্ষণ পেশায় ঝুঁকি বাড়ছে।   নীতিমালার ঘাটতি বাংলাদেশে এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন বা জাতীয় নীতিমালা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা এআই-নির্ভর প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা বলছেন, এখনই উচিত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহলে এআই ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা। নৈতিক ও নিরাপদ এআই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপদেরও একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।

জানিফ হাসান জুন ১২, ২০২৫ 0
তুলসি পাতার ৫টি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ

হাজার বছর ধরে উপমহাদেশের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও ঘরোয়া পথ্য ব্যবস্থায় তুলসি পাতা এক অবিচ্ছেদ্য নাম। তুলসি শুধু একটি গাছ নয়—এটি স্বাস্থ্য, উপকারিতা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। বৈজ্ঞানিক গবেষণাও প্রমাণ করেছে যে তুলসিতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হৃদরোগ প্রতিরোধ পর্যন্ত বিস্তৃত।   নিচে তুলে ধরা হলো তুলসি পাতার পাঁচটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যগুণ, যা প্রতিটি ঘরে জানার মতো।   ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তুলসি পাতায় থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সিজনাল ফ্লু, ঠান্ডা-কাশি বা ভাইরাস সংক্রমণের সময় নিয়মিত তুলসি পাতা সেবন করলে শরীর অনেক বেশি প্রতিরোধক্ষম হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় দেখা গেছে, তুলসি চায়ের নিয়মিত গ্রহণ ৪৫% পর্যন্ত সাধারণ ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।   ২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায় তুলসি পাতার সুগন্ধ ও উপাদান মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ হরমোনের নিঃসরণ কমায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। অনেকে তুলসিকে ‘ন্যাচারাল অ্যাডাপ্টোজেন’ বলে থাকেন, কারণ এটি শরীরকে মানসিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তুলসি পাতা চিবালে বা তুলসি চা পান করলে সারাদিন মন শান্ত ও সতেজ থাকে।   ৩. রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলসি একটি উপকারী প্রাকৃতিক সহায়ক। তুলসি পাতা ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়—পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে তুলসি পাতা গ্রহণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ভারতের ‘জার্নাল অব ক্লিনিকাল হেরবাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৬ সপ্তাহ তুলসি পাতা সেবনের ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।   ৪. শ্বাসতন্ত্রের রোগে কার্যকর তুলসি পাতায় থাকা ইউজেনল ও সাইনোল নামক উপাদান কাশি, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসসহ নানা শ্বাসতন্ত্রের রোগে উপকারী হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা, গলায় খুশখুশ ভাব বা শ্বাসকষ্টের সময় তুলসি পাতার রস মধুর সঙ্গে খেলে উপশম মেলে। গ্রামাঞ্চলে তুলসি পাতা, আদা ও গোল মরিচ দিয়ে তৈরি পানীয় ‘কাড়া’ এখনো ব্যাপক জনপ্রিয়।   ৫. ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক তুলসি পাতার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান ত্বকের ব্রণ, ফুসকুড়ি ও চুলকানি প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া তুলসি চুলের গোড়া মজবুত করে ও খুশকি দূর করে। অনেক হোমমেড ফেসপ্যাক ও হেয়ার মাস্কে তুলসি পাতা গুঁড়ো বা রস ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত ব্যবহারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

জানিফ হাসান জুন ১১, ২০২৫ 0
ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি জুন মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ৪ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে, বর্ষা মৌসুমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্যমতে, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে।   বাড়ছে জটিলতা চিকিৎসকরা বলছেন, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচলিত জ্বর, ব্যথা ছাড়াও অনেক রোগী পাতলা পায়খানা, বমি ও তীব্র দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবির রহমান জানান, "অনেকে দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, ফলে শরীরে প্লেটলেট বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়ছে।"   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা সোমবার এক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, "শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। সবাইকে বাসা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।"   কী করণীয়? বিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি জমে থাকে এমন জায়গা—ফুলদানি, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রেন বা প্লাস্টিক পাত্র—সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তাই তাদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় সরকারের তৎপরতা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। তবে অনেক এলাকাবাসী এখনও অভিযোগ করছেন, তাদের এলাকায় কার্যকর ফগিং বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

জানিফ হাসান জুন ১০, ২০২৫ 0
মেটালযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মেটাল বা ভারী ধাতব উপাদান ব্যবহারের কারণে ত্বক ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সর্তকতা জারি করেছেন এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া বেশ কিছু নামিদামি ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ (Mercury), সিসা (Lead), আরসেনিক (Arsenic) এবং ক্যাডমিয়াম (Cadmium)-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব ক্রিমের ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা ত্বকের স্থায়ী ক্ষত, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও পিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও জানান, অনেক নারী দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।   বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য বাজারে অনেক পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হলেও তাদের যথাযথ নিবন্ধন নেই। কিছু ক্রিমের গায়ে উপাদানের উল্লেখ থাকলেও তা ভুয়া বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।   ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী সালমা খাতুন বলেন, “টিভি বিজ্ঞাপনে দেখে একটা ক্রিম কিনেছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর মুখে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারি তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিল।”   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে আকৃষ্ট না হয়ে প্রাকৃতিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বক ভিন্ন ভিন্ন কারণে কালচে হতে পারে—তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার বিপজ্জনক।   সরকারি অবস্থান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বাজার থেকে ক্ষতিকর ক্রিমগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানিফ হাসান জুন ৯, ২০২৫ 0
স্টার্টআপে ঝুঁকছে তরুণ উদ্যোক্তারা, বাড়ছে বিনিয়োগের সুযোগ

দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা শুরুর আগ্রহ বিগত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্টার্টআপ খাতে প্রযুক্তি, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগগুলো এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির পেছনে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কাজ করেছে।   তরুণদের চোখে সম্ভাবনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী রায়হান মৃধা সম্প্রতি “EduTrack” নামে একটি এডটেক স্টার্টআপ চালু করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ ও ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। শুরুতে ঝুঁকি ছিল, তবে এখন মাসে ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পাচ্ছি।” এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা সদ্য পাস করা তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করছেন।   বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোও এখন বাংলাদেশি স্টার্টআপে অর্থ ঢালতে আগ্রহী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১২টি স্টার্টআপ প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে। উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘BD Venture’–এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের ধারণা অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের হয়, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও পুঁজি। এখন সেই সুযোগ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে।”   সরকারি উদ্যোগ ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে আইসিটি বিভাগের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি উদ্যোগে প্রাথমিক অর্থায়ন করেছে। একইসঙ্গে রয়েছে উদ্যোক্তা হাব, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির সুযোগ।

জানিফ হাসান জুন ৫, ২০২৫ 0