অপরাধ

রাজধানীতে দিনের বেলায় ছিনতাই বেড়েছে: আতঙ্কে পথচারীরা

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
রাজধানীতে দিনের বেলায় ছিনতাই বেড়েছে: আতঙ্কে পথচারীরা
রাজধানীতে দিনের বেলায় ছিনতাই বেড়েছে: আতঙ্কে পথচারীরা

রাজধানী ঢাকায় দিনের বেলাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে, যা নগরবাসীর জন্য নতুন এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আগের তুলনায় এখন আর ছিনতাই কেবল রাতের অন্ধকারে সীমাবদ্ধ নেই—শরৎ দুপুর বা কর্মঘণ্টার ব্যস্ত সময়ে রাস্তাঘাটেও ছিনতাইকারীদের দাপট দেখা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ব্যস্ত মার্কেট এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, ওভারব্রিজ ও যানজটপূর্ণ মোড়গুলোতে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ হেঁটে চলার সময়, মোবাইলে কথা বলার সময় কিংবা বাসে ওঠা-নামার মুহূর্তে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। টার্গেট সাধারণত মহিলাদের ব্যাগ, ফোন, গলায় থাকা চেইন বা ছেলেদের মোবাইল ও মানিব্যাগ।

নিউমার্কেট, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, বনানী, এবং মিরপুর—এইসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন অনেক পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা। অনেক সময় ছিনতাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালিত অপরাধীরাও জড়িত থাকে, যারা পেছন থেকে হঠাৎ করে টান মেরে পালিয়ে যায়। এমনকি ছিনতাইয়ের সময় আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পথচারীরা বলছেন, পুলিশের টহল থাকলেও অনেক জায়গায় কার্যকর নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার না হওয়াও এই অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এই সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। অপরাধীরা জানে, ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম, আর যদি ধরাও পড়ে, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল। এতে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

জনসাধারণের মধ্যে এখন এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ফোন ব্যবহার করছেন না, ব্যাগ শক্ত করে ধরে রাখছেন, এমনকি সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফেরার চেষ্টা করছেন। নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি আতঙ্কিত, কারণ তারা আত্মরক্ষায় খুব একটা সক্ষম নন।

নগরবাসী চাইছে—পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন আরও সক্রিয় হোক, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি বাড়ানো হোক, এবং দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, স্বেচ্ছাসেবক টহল দল গঠন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম (র‍্যাপিড রেসপন্স) চালু করাও এই সমস্যা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

শহরজুড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, রাজধানীর নাগরিক জীবন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই হবে না—জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর থেকেও। এখনই সময়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করে পথে মানুষের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার।

জনপ্রিয় পোস্ট
নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠকে জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নতুন জোট গঠনের আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল ও কিছু জাতীয়তাবাদী ছোট দলের নেতৃবৃন্দ একাধিক দফায় বৈঠকে বসেছেন এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের মতানৈক্য ও পারস্পরিক অনাস্থা ভুলে নেতারা এখন একটি বৃহত্তর ঐক্যের দিকে এগোচ্ছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা মনে করছেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতে বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কোনো দলই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না। বিশেষ করে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই জোটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। এতে করে নির্বাচনে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের দাবি ও স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নেতৃবৃন্দ। জোট গঠনের আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলো একমত হয়েছে যে, তারা জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় একটি সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ করবে। নির্বাচনী আসন ভাগাভাগি, প্রার্থী নির্বাচন, নীতিগত রূপরেখা ইত্যাদি বিষয়েও খসড়া আলোচনা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সমঝোতা চুক্তির। তবে এই প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে সহজ নয়। বিভিন্ন দলের ভিন্ন মতাদর্শ, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও আস্থার ঘাটতি মাঝে মাঝে প্রক্রিয়াকে মন্থর করে তুলছে। তবুও বৈঠকে অংশ নেওয়া অনেক নেতাই আশাবাদী যে, বাস্তবতা ও সময়ের দাবি মেনে সবাই একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাবেন। এই জোট গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তারা যদি বৃহৎ বিরোধী শক্তির সঙ্গে নির্বাচনী সমন্বয় করতে সক্ষম হয়, তবে তা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, একটি সুসংগঠিত ও নীতিনির্ভর জোট দেশের গণতন্ত্রের জন্যও হতে পারে ইতিবাচক বার্তা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সমঝোতা এবং নেতৃত্বে নমনীয়তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবাই যদি নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ কিছুটা পেছনে রেখে সম্মিলিত লক্ষ্যে একমত হতে পারেন, তাহলে এ জোট একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়ে রূপ নিতে পারে। সবদিক বিবেচনায় বলা যায়, নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠক ও চলমান আলোচনা একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে অচিরেই এই নতুন জোট দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারে। জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হতে পারে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এখন দেখার বিষয়—এই আলোচনা কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তবে রূপ নেয় কার্যকর এক ঐক্যে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই রোডম্যাপে নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত সময়সূচি, প্রাথমিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি এবং ভোট গ্রহণের কাঠামো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসি প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। প্রকাশিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদ থেকে শুরু করে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটকেন্দ্র সংস্কার, নির্বাচনী আসনের সীমা পুনঃনির্ধারণ, পর্যবেক্ষক নিবন্ধন, ইভিএম প্রস্তুতি ও নির্বাচনী কর্মীদের প্রশিক্ষণ—সবকিছুই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। কমিশনের দাবি, এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা ফেরানো ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই রোডম্যাপ প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন দল এটিকে সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং এই রোডম্যাপ একটি স্থিতিশীল নির্বাচনী পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে। অপরদিকে, বিরোধী দলগুলো রোডম্যাপকে একতরফা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে বলেছে—এটি শুধু সময়ক্ষেপণের কৌশল, যেখানে প্রকৃত সমস্যার সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোডম্যাপ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সময় রোডম্যাপে সুন্দর পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা পূর্ণরূপে কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোডম্যাপ কাগজে সীমাবদ্ধ থেকেই যাবে। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে কমিশনের করণীয় অনেক। একদিকে যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া জরুরি, তেমনি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জনসাধারণের আস্থা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। কারণ একটি অবাধ নির্বাচন শুধু সময়সূচির ওপর নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্যমতে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর অনুমোদন এবং নির্বাচনী আইন সংশোধন—এসব বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি প্রয়োজন। রোডম্যাপে এসব বিষয় যুক্ত থাকলেও বাস্তবে কতটুকু অগ্রগতি হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সাধারণ জনগণ এই রোডম্যাপকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও তারা চান এর বাস্তব প্রতিফলন। কারণ অতীতে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ও সহিংসতার কারণে মানুষ আস্থাহীনতায় ভুগেছে। একটি অংশগ্রহণমূলক, সহিংসতামুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে। সবশেষে বলা যায়, নির্বাচন কমিশনের এই রোডম্যাপ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে পারে, যদি তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং সব পক্ষ এতে আস্থা রাখে। শুধু ঘোষণা নয়, দরকার সম্মিলিত প্রয়াস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা—যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি হতে পারে।

More news from this Category

আরও দেখুন

Most Popular News

আরও দেখুন

0 Comments